অদ্ভুত সন্ধ্যা



শহরের পাশে ছোট্ট গ্রামটার নাম ছিল মায়াপুর। সবসময়েই যেন এক ধরনের শান্তি ভেসে বেড়াত গ্রামটার বাতাসে। সন্ধ্যা হলে মায়াপুরের মেঠো পথে ঝিমঝিমে অন্ধকার নামত, বাতাসে মিশে থাকত পাখিদের ডানার শব্দ। গ্রামের বাইরে একটুকরো বন, যেখানে যাওয়ার সাহস কারও নেই। কেউ বলে সেখানে অশরীরীর বাস, কেউ বলে ওখানে গেলে আর ফিরে আসা যায় না।

একদিন শহরের এক যুবক, নাম অরুণ, মায়াপুরে আসে। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু প্রশান্তি চাইছিল ও। গ্রামের সাদামাটা জীবন আর নিরিবিলি প্রকৃতির প্রতি তার আগ্রহ সবসময় ছিল। মায়াপুরের পথে হাঁটতে হাঁটতে অরুণ দেখতে পেল একটি পুরনো মন্দির। ঝোপ-ঝাড়ে ঢাকা, যেন বহু বছর ধরে কেউ সেখানে যায়নি। কিন্তু মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ওর মনে হলো যেন কেউ তাকিয়ে আছে, কোনো অদৃশ্য চোখ ওকে পর্যবেক্ষণ করছে।

সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছিল। অরুণ মন্দিরের ভেতরে ঢুকল। ভেতরে ঢুকতেই চারপাশে হালকা একটা আলো দেখতে পেল, মনে হলো যেন কেউ প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে। কিন্তু এতদিনের পরিত্যক্ত মন্দিরে প্রদীপ জ্বলবে কী করে?

মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে একটা পুরনো মূর্তি ছিল। মূর্তির সামনে রাখা ছিল ছোট্ট একটা পাথরের পাত্র। হঠাৎ অরুণের মনে হলো পাত্রটা থেকে কিছু একটা শব্দ আসছে, যেন ফিসফিস করে কেউ কিছু বলছে। অরুণ ভালো করে শুনতে চেষ্টা করল। গা ছমছমে আওয়াজ, যেন কোনো প্রাচীন ভাষায় কিছু বলা হচ্ছে।

তখনই একটা ঠাণ্ডা হাওয়া মন্দিরের ভেতরে বইতে শুরু করল। অরুণ পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেল একটা ছায়ামূর্তি। মুখ না থাকা সত্ত্বেও অরুণ নিশ্চিত ছিল ছায়াটা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আতঙ্কে তার গলা শুকিয়ে গেল। ছায়ামূর্তিটা আস্তে আস্তে তার দিকে এগিয়ে আসছিল।

ভয়ে জমে যাওয়া অরুণের মনে হলো যেন শ্বাস নিতে পারছে না। হঠাৎ করেই ছায়ামূর্তিটা অদৃশ্য হয়ে গেল। যেন কিছুই হয়নি, আবারও চারপাশ নীরব হয়ে গেল। কিন্তু অরুণ জানত, যা দেখেছে তা কোনো বিভ্রম ছিল না। মন্দির থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে গিয়ে সে পাথরের পাত্রে আবারও সেই ফিসফিস শুনতে পেল। যেন তাকে কোনো এক অভিশাপের কথা বলা হচ্ছে।

অরুণ আর কখনও মায়াপুরে ফিরে আসেনি। তবে শোনা যায়, সেদিনের পর থেকে মন্দিরের চারপাশে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করল। রাতের বেলা মন্দিরের সামনে কেউ গেলে অদ্ভুত ফিসফিস শুনতে পায়। সেই ছায়ামূর্তিটা আবারও মন্দিরের আশেপাশে দেখা যেতে লাগল। গ্রামের মানুষ এখন সন্ধ্যা নামলেই মন্দিরের কাছ থেকে দূরে থাকে।

Auto Click Redirect

Post a Comment

Previous Post Next Post